আঞ্চলিক সংবাদ

নওগাঁর ধামইরহাট সেতু ভাঙ্গনের
মুখে হুমকীর মুখে যানবাহন চলাচল

আব্দুল আজিজ,নওগাঁ থেকে :

 নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলা সদরের ঘুকশী খাড়ির উপর গুরুত্বপূর্ণ সেতুটির পূর্ব ধারে বড় ধরনের ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে। গত কয়েক বছর ধরে পূর্ব ধারের বাঁশের খুটি ও বালির বস্তা দিয়ে ভাঙ্গন রোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে মারাত্বক ঝুকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। যে কোন সময় বড় ধরনের দূঘটনা ঘটতে পারে বলে এলাকাবাসী আশংকা প্রকাশ করেছে। এদিকে গত কয়েক দিন ধরে প্রবল বর্ষনের কারণে পুনরায় ভাঙ্গন শুরু হয়েছে ফলে ধামইরহাট-জয়পুরহাট সড়কের ওই গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি দু�ধারে ধ্বস দেখা দিয়েছে। অপরদিকে ভাংগনের জায়গা মেরামতের নামে গত কয়েক বছরে লাখ লাখ টাকা গচ্চ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অথচ স্থায়ী কোন ব্যবস্থা আজও নেয়া হয়নি। এ ব্যাপারে নওগাঁ সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী নূর এ আলম জানান, ভাঙ্গন ঠেকাতে স্থায়ীভাবে ব্যবস্থার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে অর্থ প্রাপ্তি সাপেক্ষে নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। বর্তমানে ভাঙ্গন ঠেকাতে দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে
দেশের মডেল চিংড়ী চাষী সাতক্ষীরার মাহমুদুল হক লাভলু নাজমুল হক, সাতক্ষীরা :


থাইল্যান্ডের পর দেশের সাতক্ষীরা জেলায় সেমিংটেনসি ( আধানিবিড় সিএসপি পদ্ধতি) পদ্ধতিতে চিংড়ী চাষ করে ১০ গুন বেশী লাভবান হয়েছে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার নাংলা গ্রামের মাহমুদুল হক লাভলু। কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা আর আত্মবিশ্বাস তাকে সাফল্যে স্বর্ণ শিখরে পেঁঁৗঁছে দিয়েছে। তিনি মাত্র এক একর জমিতে আধানিবিড় পদ্ধতিতে চিংড়ী ঘেরে বাগদা চিংড়ী চাষ করে বাগদা চিংড়ী উৎপাদন করে জাতীয় শ্রেষ্ঠ চিংড়ী চাষীর সন্মাননা অর্জন করেছেন। সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে এল এল বি পাশ করা আইন পেশায় না গিয়ে লাভলু নিজে সাবলম্বীর পাশাপাশি দেশ সেরা চিংড়ী চাষী হয়েছেন। এখন এলাকার চিংড়ী চাষীরা তাকে অনুকরণ করে চিংড়ী চাষ করে লাভবান হচ্ছে
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার নাংলা গ্রামের যুবক মাহমুদুল হক লাভলু জানায়, ২০০৩ সালে বেকারত্ব ঘোচাতে নিজের এক একর জমিতে সনাতন পদ্ধতির ছেড়ে সেমিংটেনসি ( আধানিবিড় সিএসপি পদ্ধতি) পদ্ধতিতে চিংড়ী চাষ শুরু করি। শুরুতেই অবাক করার মত সাফল্য আসতে থাকে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মৎস্য বিভাগের সাথে পরামর্শ করে আমি চাষ করতে থাকি। এক সময় চিংড়ী অন-ত ১০ গুনের বেশি উৎপাদন করি। এ জন্য নিয়মিত চর্চার পাশাপাশি নিয়মিত খাদ্য প্রদান, আবর্জনা পরিষ্কারসহ কঠোর পারিশ্রম করতে হয়। জীবনের বেকারত্ব ঘুচে আসতে থাকে সুদিন। ২০০৫ সালে দেবহাটা উপজেলা ও ২০০৮ সালে জেলার শ্রেষ্ঠ মৎস্য চাষী পুরষ্কার লাভ করে। এতে আরো বেশি আত্মবিশ্বাসে নিজেকে চিংড়ি চাষের উপর আত্মনিয়োগ করে লাভলু। ২০১০ সালে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার জন্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ২০ জনকে বিশেষ সম্মননা প্রদান করেন। তার মধ্যে লাভলু ছিলেন অন্যতম। অবশেষে ২০১০ সালে তার জীবনে আসে সবচেয়ে বড় পুরষ্কার জাতীয় মৎস্য চাষীর পুরষ্কার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু আন-র্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে লাভলুর হাতে পুরষ্কার তুলে দেন। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় নি লাভলুকে। তিনি চিংড়ী ঘেরের পরিধি আরো বড় করে নতুন উদ্যোমে কাজ শুরু করেন। প্রতিষ্ঠা করেন মাহি ফিস এন্ড কালচার প্রজেক্ট। এখন তিনি গ্রামের গন্ডি পেরিয়ে দেশের মডেল মৎস্য চাষীতে পরিণত হয়েছেন। জেলার ও জেলার বাহির থেকে প্রতিদিনই মৎস্য চাষীরা তার মৎস্য ঘের পরিদর্শনে যাচ্ছেন। তার কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন। তাকে মডেল করে জেলার বিভিন্ন এলাকায় আরো শতাধিক চাষীরা সনাতন চাষ ছেড়ে সেমিংটেনসি ( আধানিবিড় সিএসপি পদ্ধতি) পদ্ধতিতে চিংড়ী চাষ করছেন। নতুন ভাবে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছেনএ অঞ্চলের চাষীরা। সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোঃ আবদুস সামাদসহ মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা লাভলুর চিংড়ী চাষ পদ্ধতি পরিদর্শনে যান। এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, থাইল্যান্ডের পাশাপাশি আজ বাংলাদেশের প্রত্যন- অঞ্চলে এ চাষ করতে সক্ষম হয়েছেন মাহমুদুল হক লাভলু। তিনি দেশের গর্ব । তার দেখাদেখি সাতক্ষীরা, খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকায় এ পদ্ধতিতে চাষ করা হচ্ছে। তিনি জেলার চিংড়ী চাষীদেরকে আধানিবিড় পদ্ধতিতে চিংড়ী চাষ করে আরো বেশী বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করার আহবান জানান। পরিদর্শনের সময় উপসি'ত ছিলেন দেবহাটা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা কালা কালাচাদ সিংহ , জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ , উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ শামীম হায়দার, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক , শ্রীম টেক লিঃ এর মোঃ হায়দার আলী প্রমুখ।

জয়পুরহাটে ইউএনও’র হস-ক্ষেপে বাল্য বিয়ের হাত থেকে রক্ষা পেল ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী নিপু


শফিউল বারী রাসেল, জয়পুরহাট থেকে:
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে ইউএনও’র হস-ক্ষেপে বাল্য বিয়ের হাত থেকে রক্ষা পেল ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী নিতু। বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে গেছে বর।
জানা গেছে, জেলার আক্কেলপুর পৌর শহরের আমুট্র গ্রামের সিদ্দিক হোসেনের কন্যা ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী নিপুর (১২) সাথে পার্শ্ববর্তী নওগাঁর বদলগাছী থানার জনৈক এক ব্যক্তির সাথে উভয় পক্ষের সম্মতিতে বিয়ের দেয়ার খবর পেয়ে আজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এ.এম রফিকুন্নবী, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অলক কুমার ঘোষ, তিলকপুর ইউনিয়ন স্বাস'্য কেন্দ্রে ডাঃ আব্দুল হালিম, ব্র্যাক আইন সহায়তা প্রোগ্রামের পিও আব্দুল আলীম ওই বিয়ের আসরে অভিযান চালিয়ে বাল্য বিয়ের হাত থেকে রক্ষা করলেন নিপুকে। প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যনর্ত্ম নিপুকে বিয়ে না দেয়ার শর্তে পিতার কাছ থেকে নেয়া হয়েছে লিখিত অঙ্গীকার নামা। এ সময় বর কৌশলে বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে যায় ।


প্রথম আলোর সহায়তা : লালপুরের সরল শেখ জিপিএ-৫ পেয়েছে
দিন মজুরের কাজ করে কোন রকম এসএসসি পাশ করেছিলাম। মনে করে ছিলাম জিপিএ-৫ বড় লোকদের জন্য সুখের বিষয়। কিন্তু তা আমার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ালো। পড়াশুনা করে ডাক্তার হয়ে দেশের মানুষের সেবা করব।কিন্তু সে আশায় গুড়ে বালি। যেখানে দুবেলা পেটের ভাত জুটানো সম্ভব হয় না, সেখানে কিভাবে ডাক্তার হবো। আর পড়ার জন্য এখন যে পরিমান খরচ তা পরিবারের পে যোগান দেওয়া সম্ভব না। এরই মধ্যে প্রথম আলোতে প্রতিবেদন ছাপার পর আমার জন্য শিক্ষা সহায়তার কথা শুনে মনে আশার আলো জাগে। আমি স্বপ্ন দেখতে থাকি ডাক্তার হবার। আমার মনে অদম্য আগ্রহের জন্ম নেন। মনে মনে ভাবি যদি আমার পড়ালেখার খরচ পাই তাহলে মন দিয়ে পড়ে আমি আরো ভাল করব। প্রথম আলোর আর্থিক সহায়তায় এবার আমি এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছি। আমি প্রথম আলোর নিকট চিরকৃতজ্ঞ। আবেগ আপ্লুত হয়ে এক নিশ্বাসে কথা গুলো বলে, এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া লালপুরের সরল শেখ। দিনমজুর মো. আজিবর শেখের পুত্র সরল শেখ। মা আফরোজা বেগম গৃহিণী। বাবার আয়ে সংসারই ঠিকমতো চলেনা। পড়াশুনার টাকা আসবে কোথায় থেকে। অদম্য আগ্রহ তাকে তাড়া করে। বাবার সাথে মানুষের বাড়িতে কামলা দিয়ে আবার মাঠে ঘাস কেটে বিক্রি করা টাকা দিয়ে পড়াশুনা করে। ২০০৮ সালে বালিতিতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি জিপিএ-৫ পায় সে। প্রথম আলোর শিক্ষা সহায়তায় উচ্চ মাধ্যমিকে পড়াশুনা চালায়। এ বছর (২০১০) লালপুর মহাবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসিতে সে জিপিএ-৫ পেয়েছে। এই ফলাফল তাকে ডাক্তার হবার স্বপ্ন পূরনে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে। সরল শেখের মা আফরোজা বেগম বলেন, প্রথম আলোর আর্থিক সহায়তা না পেলে আমার ছেলের পড়ালেখা সম্ভব হতো না। আমারা এ জন্য প্রথম আলোর কাছে চির ঋনি। আমার ছেলে এ সহায়তার মান রেখেছে। এখন চিন্তা আমার ছেলের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরনে আমি কি ব্যর্থ হবো? আমার তো সামর্থ নাই যে তাকে পড়াবো। কি করবো কিছু ভাবতে পারছি না। লালপুর মহাবিদ্যালয়ের অধ্য মো. আব্দুল মান্নান প্রথম আলোর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সরল মেধাবী ছাত্র। প্রথম আলোর সহায়তায় সে পড়ালেখা করছে সেটা আমি জানি। এ ব্যাপারে প্রথম আলোর লালপুর প্রতিনিধি মাঝে মধ্যেই আমার কাছে খোঁজ নিয়েছেন। আমিও যতটুকু সম্ভব তাকে সহায়তার চেষ্টা করেছি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরল উচ্চ শিতি হয়ে অবশ্যই দেশের মুখ উজ্জল করবে এতে সন্দেহ নেই। এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় লালপুর মহাবিদ্যালয় উপজেলায় সবচেয়ে ভাল ফল করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন। মোট ২০১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ১৪০ জন। পাশের হার শতকরা ৭১ ভাগ।
বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তরিত হচ্ছে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ
বরিশাল: চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তরিত হচ্ছে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ। আগামী শিক্ষাবর্ষে এখানে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে,


১৯৬৮ সালে বরিশালে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দক্ষিণাঞ্চলে চিকিৎসা শিক্ষা বিস্তারে প্রতিষ্ঠানটি বিশাল গুরুত্ব বহন করে আসছে। এছাড়াও দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র উন্নত চিকিৎসাস্থান হিসেবে এর গুরুত্ব রয়েছে। সমপ্রতি বর্তমান সরকার সারাদেশে ৫টি মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেটে অবস্থিত মেডিকেল কলেজগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। জাতীয় পর্যায়ে কলেজ থেকেই ফান্ড সৃষ্টির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হবে। বরিশাল মেডিকেল কলেজ সূত্র জানায়, ২০১০-১১ শিক্ষা বর্ষে এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ক্রয়ের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে চাহিদা পত্র পাঠানো হয়েছে। শেবাচিম কলেজের অধ্যক্ষ ডা. আবরার আহমেদ জানান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি জানান, মেডিকেল কলেজ থেকে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তরিত হলে ছাত্র-ছাত্রীরা এখান থেকে এমএসএমবিসহ পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করতে পারবে। বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তরিত হলে এখানে যে বিষয়গুলো থাকবে সেগুলো হলো ইন্টারন্যাশনাল মেডিসিন, জেনারেল সার্জারী, ডিপ্লোমা, ডিসিএইচ, এসএস (গাইনি)সহ আরো বিভিন্ন বিষয়। অধ্যক্ষ জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে কলেজ থেকে ফান্ড তৈরীর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাস শুরু করা হবে। পরবর্তীতে সরকারী নির্দেশে বাড়তি অর্থের যোগান দেয়া হবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে লিখিতভাবে এর কাগজপত্র কর্তৃপক্ষের নিকট আসবে বলে কলেজ অধ্যক্ষ ডা. আবরার আহমেদ জানান, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০১০-১১ সালের শিক্ষা বর্ষে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে।

ফেনীতে দূর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহত : অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ


     
                               
আজ রোববার ফেনী শহরের একাডেমি রোডের সালাম স্টেডিয়াম এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনা গ্রীন টাউন সার্ভিস বাস-মোটর সাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই কলেজ ছাত্র নিহত ও একজন আহত হয়েছে।নিহতরা হলো- ফেনী সরকারি কলেজের ছাত্র সালাহ উদ্দীন (২১) ও ফেনী পলিটেকনিকেল ইনস্টিটিউটের ছাত্র জিকু (২৪)। দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা শহরের গ্রীন টাউন সার্ভিসের ১০টি বাস ভাঙচুর ও ৪/৫টি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় ছাত্ররা ফেনী শহরের প্রধান সড়কসহ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ ও টায়ারে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে। ফলে বেলা সাড়ে ১২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত ফেনী শহর ও ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু আহম্মদ আল মামুন ও ফেনী কলেজের অধ্যক্ষ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় দুই কলেজ ছাত্র নিহত হওয়ার ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে পথিমধ্যে ফেনী পলিটেকনিকেল, ফেনী কলেজ ও কমার্স কলেজের ছাত্ররা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। তারা শহরের বিভিন্ন সড়কে ৪/৫টি গ্রীন টাউন সার্ভিসে আগুন ধরিয়ে দেয়। বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ ও লালপুল এলাকায় গিয়ে কমপক্ষে ৫০টি দূরপাল্লার গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় ছাত্রদের বিক্ষুব্ধ একটি অংশ ফেনী রেল ক্রসিংয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ বন্ধ করে দেয়। এক ঘণ্টা রেলপথ অবরোধ চলাকালে মহানগর এক্সপ্রেস ফেনীতে আধাঘণ্টা আটকা পড়ে। দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত শহরের সকল দোকানপাট বন্ধ ছিল। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু আহম্মদ আল মামুন ও ফেনী কলেজের অধ্যক্ষ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। দুর্ঘটনায় আহত ছাত্র মিল্লাত (২৩) আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। অপরদিকে বিকেলে পুলিশ ও র‌্যাব পলিটেকনিকেল এলাকায় গেলে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা পুলিশ ও র‌্যাবের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তিন সদস্যকে কিছু সময়ের জন্য আটক করে রাখে। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়।







 
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: মো:মহিউদ্দিন,সম্পাদক : মাহবুবুর রশিদ,নির্বাহী সম্পাদক : নিজাম উদ্দিন। সম্পাদকীয় যোগাযোগ : শাপলা পয়েন্ট,কানাইঘাট পশ্চিম বাজার,কানাইঘাট,সিলেট।+৮৮ ০১৭২৭৬৬৭৭২০,+৮৮ ০১৯১২৭৬৪৭১৬ ই-মেইল :mahbuburrashid68@yahoo.com: সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত কানাইঘাট নিউজ ২০১৩